বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

সুদী ব্যাংকে চাকরি করার বিধান

নিজস্ব সংবাদাতা: / ৩৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

সুদী ব্যাংকে চাকরি করার বিধান

প্রশ্ন: আমার এক relative ব্যাংক এ জব করতে চায়। আমি তাকে বলেছি যে, ব্যাংক এ জব করা হারাম কিন্তু সে দলিল চাইছে যে, কেন ব্যাংক এ জব করা হারাম হবে? আমি তাকে উপযুক্ত দলিল দিতে পারি নি। কারণ আমি নিজেও সঠিক ভাবে জানি না।
তাই আমি জানতে চাই যে, ব্যাংক সুদের সাথে কিভাবে জড়িত? ব্যাংক এর সাথে সুদ এর সম্পর্ক কি? কেন ব্যাংক এ জব করা হারাম হবে? জব করার সাথে সুদ এর কি সম্পর্ক? কারণ সে তো কাজ করবে টাকা পাবে?

উত্তর: সুদী কারবার করে এমন ব্যাংকে চাকরি করা হারাম। কারণ, এতে গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। কেননা, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ অর্থ: “ পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” (সূরা মায়িদাহ: ২)
সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জাবের রা. হতে বর্ণিত:
أنه لعن آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه، وقال: هم سواء
“সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, সুদের লেখক এবং স্বাক্ষীদ্বয়কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, তারা সকলেই সমান (গুনাহগার)।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৯৫, শামেলা)
তবে যে সকল ইসলামী ব্যাংক সুদ মুক্তভাবে কার্যক্রম করে সে সকল ব্যাংকে কাজ করায় দোষ নাই।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে সুদের গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
⭕⭕⭕⭕⭕⭕⭕

প্রশ্ন: সুদী ব্যাংকে চাকরি করা কিভাবে ইসলামি শরিয়ত এর পরিপন্থী? পরিবারের সদস্যদেরকে এটা বলতে গেলে তারা তা না মেনে বিভিন্ন রকম যুক্তি দেয়। যেমন, মহানবী সা. এর সময় তো ব্যাংক ছিল না। সেজন্য সুদের ব্যাপারগুলো ব্যাংকে চাকরির বিষয়ে প্রযোজ্য নয়। এরকম নানা যুক্তি। দয়া করে এ বিষয়ে জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর:
ইসলামে সুদী কারবার করা কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ। এ মর্মে কুরআন-হাদিসে বহু সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। সুতরাং সুদ সংশ্লিষ্ট সব কিছু থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা মুসলিমের জন্য আবশ্যক। সুদী ব্যাংকে চাকরি করা গুনাহর কাজে সহযোগিতা করার শামিল। আল্লাহ বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ ۖ إِنَّ اللَّـهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
“সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কঠোর শাস্তিদাতা।” [সূরা মায়িদাহ: ২]
রাসূল সা. এর যুগে ব্যাংক না থাকলেও সুদের ব্যাপক প্রচলন ছিল। ই/হু/দীরা সুদী কারবারে ছিল অগ্রগামী। সেই প্রেক্ষাপটে কুরআন-সুন্নাহয় সুদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা শক্তভাবে উচ্চারিত হয়েছে। এ মর্মে প্রমাণের অভাব নাই। সেই সাথে হারাম ও অন্যায় কর্মে সহযোগিতা করার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে এ ধরণের যুক্তি মোটেও টেকে না যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে ব্যাংক ছিল না! কিন্তু বর্তমান যুগে আছে বলে তা জায়েজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে তো বর্তমান যুগের নানা ধরণের মাদকদ্রব্য পাওয়া যেত না তাই বলে কি সেগুলো এখন হালাল? মোটেই না। ইসলামের বিধিবিধান সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য। ইসলামী শরিয়ার মূলনীতির আলোকে তা কিয়ামত পর্যন্ত বলবত থাকবে নাম ও পরিস্থিতি যাই হোক না কেন।
যে সংশোধন হতে চায় সে কুরআন-হাদিসের একটি দলীল পেলেই সংশোধিত হয়ে যায় কিন্তু যে চায় না সে হাজারও দলীল পাওয়ার পরও কেবল কুযুক্তি ও ওজুহাতের আশ্রয় নেয়!

আল্লাহই হেদায়েতের মালিক।

উত্তর দাতা:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলিল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব
#abdullahilhadi

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!
error: Content is protected !!